Abstract
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে বিরাজ করছে বহুবিধ সামাজিক সমস্যা। এর মধ্যে শিশু ও কিশোর অপরাধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশে মোট শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি যা সমগ্র জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ।’ শিশু-কিশোররা দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ও ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাদের বেড়ে ওঠার সময়ের প্রকৃতি এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বড়দের জীবন থেকে আলাদা। তারা অনেক সময় পরিবারে মত প্রকাশ করতে পারে না। আবার খুব সহজেই পরিবেশ পরিস্থিতির শিকার হয়। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণেও বিপদগামী হয়ে যায় অনেক শিশু-কিশোর। এভাবে নানা কারণে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে অপরাধ করে। নিজের ও অন্যের ঘরের মালামাল চুরি, পকেটমার, মাদকাসক্ত, জুয়া খেলা, ছিনতাই, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা ইত্যাদি অপরাধে তারা অভিযুক্ত হয়। এছাড়া বিভিন্ন আইনের আওতায় তারা অনেকসময় অপরাধ করছে এবং আটক হচ্ছে। এভাবে শিশু-কিশোররা যখন কোন অপরাধে জড়িত হয় তখন তাদেরকে ভিন্ন মানদণ্ডে, বিশেষ নীতি বা আদর্শের আলোকে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন, যাতে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। উল্লিখিত চিন্তা চেতনার আলোকে অপরাধে জড়িত শিশু-কিশোরদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, সংশোধন, সামাজিকভাবে উন্নয়ন এবং অন্যান্য কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে “শিশু আইন” প্রবর্তন করা হয়। অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের বিচার, সংশোধন, শাস্তি, নিরাপত্তা এবং হেফাজতের জন্য পূর্বের সকল আইন সমন্বিত ও সংশোধন করে ‘শিশু আইন, ১৯৭৪’ প্রণীত হয়। এ আইন শিশু-কিশোর বিচার ব্যবস্থার মূখ্য আইন। ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার আওতায় বিচার করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সামাজিকভাবে উন্নয়নের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শিশু আদালতের বিষয়সমূহ এ আইনে আলোচিত হয়েছে।”
এ প্রবন্ধটিতে বাংলাদেশে শিশু-কিশোররা কখন ও কিভাবে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং এদের আইন
ও বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতিগত জটিলতা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।